Tuesday, September 17, 2019

বিনয় মজুমদার স্মরণে(১৭.০৯.১৯৩৪-১১.১২.২০০৬):তাঁর কাব্যভাবনা ও সমসাময়িক ইতিহাস পর্যালোচনা


"X=0
এবং Y=0
বা X=0=Y
বা X=Y
শূন্য 0 থেকে প্রানী X ও Y সৃষ্টি হলো
এই ভাবে বিশ্ব সৃষতি শুরু হয়েছিলো।"

    অসম্ভব,এ লাইনের প্রাণপুরুষ আমি নই হওয়ার যোগ্যও নই,কেননা এই X,Y,Z নিয়ে যে কষাঘাতগুলি খেতে খেতে বড়ো হয়ে উঠেছি,তা থেকে বাঁচতেই দল পরিবর্তন করে রসাত্মক পরিপাকে(অন্তত আমার কাছে তাই) আবর্তিত হওয়ার ইচ্ছে হয় এবং আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তা নিয়েই আবর্তিত হবে বলেই আমার বিশ্বাস....সুতরাং শরৎ প্রাতে এমন ধরনের 'হেয়ালিযুক্ত লাইনের' তর্জমা বুঝতে পারা অনেকের কাছেই শক্ত,তা যদিও বা হয় তবে এ নিছক মিথ্যা নয় যে আজ এই সকালে মেঘের ও বৃষ্টির ও আবেগঘন এক বাতাসের সঙ্গমে আমি সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছি,হ্যাঁ অন্তত আজকের দিনটাতে চক্রকারে পাগল হয়ে গেলে ক্ষতি নেই বরং স্বয়ংকে আনন্দ দেওয়া যায়।

উপরোক্ত লাইনের লেখক কে কিংবা কে তার এই গূঢ় আহ্বান কে বিশ্বকোষে স্থাপন করার চেষ্টা করেছিল তা বলব,বলার জন্যই এ কলম ধরা,তাঁর আগে একটা ইতিহাস বলি.....রবীন্দ্রত্তোর যুগে আমরা জানি কমবেশি অনেকেই 'কবিতা' লেখার জন্যে আপন আত্মাকে আত্মনিয়োগ করেছিল কিন্তু তথাকথিতভাবে দেখা যায় স্ততন্র সেই ভাব আসছিল না,তাহলে আমরা এও জানি যে,'জীবনানন্দ দাশ' ছিলেন সেই প্রথম প্রথাভাঙা স্বয়ংসম্পূর্ণ কবি....আধুনিক যুগের সত্তা বাঙালি খুঁজে পায় তাঁর হাত ধরেই,বাংলা সাহিত্য আরও দৃঢ় হয় বাক্যবাগীশতায়,উপমা,প্রতীক যোগে সাহিত্যের আঙিনা নানা রঙে ভূষিত হতে থাকে....তাহলে এরপর আসা যাক পঞ্চাশ-ষাটের দশকের কলকাতায়....জীবনানন্দের কাব্যচর্চার আরও নিগূঢ়,সত্যের আরও কাছাকাছি পৌছুনোর এক ব্যাপক আকাঙ্খা যেন সেইসময়কার সচকিত তরুণদের আবরণখুলে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।কফিহাউসের টেবিলে অযান্ত্রিক ধোঁয়ার সরস উদারতায় ও সেসময়কার কলেজ ও ইউনিভার্সিটি ছাত্রদের বিশ্বমানচিত্র দখলের দরকারি প্রয়াস সূচনা ঘটায় এক আন্দোলনের।

এতক্ষণে হয়তো মস্তকের ঘিলুর এক-দু ঘা বিষমবারি খেয়ে ফেলেছেন,স্বাভাবিক....যে অভীধায় 'ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভ মুভমেন্ট' ছিল অতিপ্রয়োজনীয় সেই একই কারণে অনাহূত এই আন্দোলন বাংলা সমাজ ও সাহিত্যের মেরুকরণে অগ্রণী ভূমিকা নেয়...এবার এই আন্দোলনেরই ভিন্ন এক এবং অদ্বিতীয় জনৈকের কথা উল্লেখ করব।না উনি এখনকার পাঠক বা আবৃত্তিকার কারও কাছেই কোনো কেউকেটা নন...উনি বহুদিনযাবৎ অনাদরে পড়ে থাকা বাঙালির স্মৃতিভ্রংশতার নিদারুণ পরিণতি,যে সাহিত্যসমাজ একদা তাঁকে ভূষিত করেছিল 'কবিদের কবি' হিসাবে,তিনি কালের বহুমুখী প্রতিভায় ম্রিয়মান হতে হতে এখন বিলুপ্ত।যুক্তিবাদীদের আখড়ায় অথবা কিছুটা এলিটগোষ্ঠী বাদে তাঁর কবিতা বাংলা জনগোষ্ঠীর কাছে যে অপাঙক্তেয় তা বলাই বাহুল্য....সুললিত ছন্দ নেই তাঁর,ব্রজনির্ঘোষ প্রেমের অযথা বার্তালাপ নেই তাঁর,নিয়ন্ত্রণহীন উপমার কারসাজি নেই তাঁর...তবে জীবনানন্দের কাব্যভাবনার সবথেকে কাছে বিরাজ করেও স্বীয়' মননের পরিচয় বহন করে গেছেন যিনি,তিনি হলেন আমার আজকের এই আলোচনার প্রধান চরিত্র।

৩৪' এর অখন্ড ভারতের বার্মা প্রদেশে তাঁর জন্ম,প্রথম কবিতার সূচনা 'তেরো' বছর বয়সে তবে নিজস্বতা খুঁজে পান পঞ্চাশের দশকে চাকরী ছেড়ে,ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে,তবে যা ছাড়েননি আমৃত্যু তা হল তাঁর গণিতচর্চা,সত্যেন বোস যার গণিতের গবেষণা চেয়েছিলেন প্রকাশ করতে,সেই 'ইউনিক' কবির ভাবনায় 'ম্যাথমেটিকাল এক্সপ্রেশন' থাকবে না তা তো হয় না....শেষ জীবনের সব কবিতাই অবশ্য তাঁর আদিরসাত্মক ভঙ্গিমায় লেখা,তবে পছন্দের ছন্দ ছিল 'পয়ার' যা নিয়ে সারাজীবন লিখে গেছেন,বিশ্বাস করতেন এই ছন্দই কবিতার প্রকৃত ছন্দ হওয়া উচিৎ।অবশ্যি শেষজীবনে ছন্দহীনতায় কাটিয়েছেন নিবিড় একাকিত্বে,তাতে যে তাঁর কোনো আক্ষেপ ছিল এমন তো নয়ই,বরং অনুর্বর পৃথিবীর যন্ত্রভাবনা ত্যাগ করে ভিন্ন পথের এক দিশারী হতে পেরেছিলেন তিনি,যা হয়তো সবার পক্ষে সমীচীন নয়,কিংবা যে পথ হয়তো সবাই চিনে উঠতে পারেন না।

"বিষয়বস্তুর অভাব হচ্ছে না,কারণ মানব-জীবনের সম্পূর্ণ অজ্ঞাত এক লোক আমি আবিষ্কার করেছি।পৃথিবীর জড়,উদ্ভিত ও মানুষের একত্রিত বাসের কারণ,উপায় প্রভৃতি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।"

অবিবাহিত জীবনে হয়তো ভালবেসেছিলেন একজনকেই,যাঁকে উৎসর্গ করে লেখা তাঁর অভূতপূর্ব সেই গ্রন্থ "ফিরে এসো,চাকা"…কিংবা প্রেমহীনতায় পঙ্গু এ মানবাত্মা হয়তো ভালবেসেছেন মানুষকে,পৃথিবীকে,পৃথিবীর ছায়া,আলো,বট,শিমূল,দেবদারু,গাছের ফুল,কুসুম সব,সবটাকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন তিনি।অদ্ভুত হ্যাঁ,আমাদের বুঝবার জায়গা থেকে অনেকটা দূরে সরে গিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন নিজের যাপন।পরিণত অবয়ব তাঁর খুঁজে পাওয়া মুশকিল,তবে এইজন্যই তাঁকে খুঁজতে ভাললাগে আরও বেশি করে।অসম্পূর্ণতায় একটা জীবন অনাহূত থাকে বৈকি,তবে জীবনবোধের গূঢ় দর্শনে তিনি অনাহূত সেই জীবনকেই পাথেয় করে নিয়েছিলেন।তাই সমাজের রুপরেখা টেনে,মানুষের ইতিহাসকে বিলোপ না করে তিনি তাঁর কবিতায় প্রকৃতিপ্রেম,উদার যৌন আকর্ষণ,যা কখনই স্বাভাবিক কামবোধে পরাভূত নয়,তা আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন।

"ক্রিসেনথেমাম ফুল—ফুলে-ফুলে একাকার ভোরের কেয়ারি;
একটি নিটোল গোল‌ পরিধিতে  প'ড়ে আছে শীতের রোদ্দুরে।
জন্মমরণের কথা ভুলে গিয়ে আদরের কথা ভুলে গিয়ে
এর পাশে ব'সে পড়ি,অনেক রকম সব রঙের নিকটে।
কাছ থেকে দেখি ব'লে এতটা নিকট থেকে দেখি ব'লে এত—
এত ফুল দেখা যায়,আলাদা আলাদা ভাবে কোষ মনে হয়।
মনে হয় ফুলগুলি কেবল‌ একটিমাত্র কেয়ারির কোষ,
কাছ থেকে দেখি ব'লে অকারণে এত ফুল বলে মনে হয়।
দ্বাদশার জোছনায় একা-একা—একা-একা গতকাল রাতে
যখন সারস হয়ে ফুলের কেয়ারিটির উপর উড়েছি,
উড়েছি অনেকক্ষণ তখন আসলে এর মানে বোঝা গেছে—
তখন দেখেছি এক হলুদ রঙের গোল চাঁদের মতোন।
আবার যখন আজ একক সারস হয়ে উড়ে যাবো
পরিষ্কার কেয়ারির উপর ডানা ঝাপটাবো
অনেক সময় ধ'রে তখন এ-কেয়ারিকে মনে হবে এক
হলুদ লঙের বাটি—রঙের বাটির মতো,আমির চেয়েও
বহু বেশি একা-একা হলুদ রঙের বাটি,রঙে ভরি বাটি।"
       
'অঘ্রাণের অনুভূতিমালা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত (২) নং কবিতার অংশবিশেষ এই পঙতিগুলো।কি মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে না দুরূহ কোনো বেদনার অবলোপন? মনে হচ্ছে কি অবদমিত প্রেমিকের প্রেমের অভীপ্সা?মনে হচ্ছে কি নিজেদের চেনা পৃথিবীর মধ্যেই এমন ভিন্নমাত্রিক পৃথিবী দর্শন কিভাবে সম্ভব?এর উত্তর পাওয়া যাবে কবির নিজের জীবন ঘেঁটে।কবির গণিতশাস্ত্রে অসম্ভব পারদর্শিতার ফলস্বরুপ হল তাঁর এই বহুমাত্রিক কাব্যভাবনা,গণিতে একটা থিওরেম প্রতিষ্ঠিত করতে যেমন প্রচুর 'প্রবলেম' ডিঙিয়ে পৌছুতে হয় সেখানে,তেমন তাঁর কবিতাতেও তিনি এই ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন বৈকি।

"ফিরে এসো,চাকা" গ্রন্থের অন্তর্গত (৩৬) সংখ্যক কবিতায় কবি নিজের জীবনআলেখ্য তুলে ধরেছেন অতি সতর্কিত ভাষা এবং সচেতন কিছু উপমা,প্রতীক ব্যবহার করে।মূলত কবিতাটি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে রচিত হলেও এর মধ্যে তাঁর নিজের জীবনদর্শন সবিস্তারে ব্যাখ্যা কিছুটা হলেও সম্ভবপর বলে আমি বিশ্বাস করি।সেইখান থেকেই শেষ স্তবক হল নিম্নরুপ-

"এখন সকলে বোঝে,মেঘমালা ভিতরে জটিল
পুঞ্জীভূত বাষ্পময়,তবুও দৃশ্যত শান্ত,শ্বেত,
বৃষ্টির নিমিত্ত ছিল,এখনো রয়েছে,চিরকাল
রয়ে যাবে;সঙ্গোপন লিপ্সাময়ী,কম্পিত প্রেমিকা—
তোমার কবিতা,কাব্য;সংশয়ে সন্দেহে দুলে দুলে
তুমি নিজে ঝ'রে গেছো,শুধু ভবিষ্যৎ হেসে ওঠে।"

দৃশ্যতই জীবনানন্দের ব্যাথায় আকুল কবি নিজের জীবনেও দৃষ্টান্ত সেই অকুলান অগোচরে থাকাকে নিয়ে বিলাপ করছেন,যা একইভাবে করেছিলেন তাঁর সমসাময়িক আর এক কবি 'ভাস্কর চক্রবর্তী'।এখানে কবি আপন অবসরেই বেছে নিয়েছেন দুরন্ত একাকীত্ব,বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত অধ্যাপনা হোক কিংবা জাপানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর সুযোগ,সব ছেড়ে দিয়েছেন না জানি জীবনের কি বিষম কষাঘাতে।দ্ব্যর্থহীনভাষায় বলেছেন,শত দুঃখের মধ্যেই কবিতা লিখে এক পরম আনন্দলাভের কথা।আদি থেকে অন্ত তাঁর কবিতা যেন তাঁর নিজের জীবননাট্যের একটা জ্বলন্ত দিনপঞ্জী।

"অনেক সন্ধাষ ক'রে নীতি নয়,প্রেম নয়,সার্থকতা নয়,
পেয়েছি আহত ক্লান্তি—ক্লান্তি,ক্লান্তি শুধু।
শুনেছি যে কতিপয় পতঙ্গশিকারী ফুল আছে।
অথচ তাদের আমি এত অনুসন্ধানেও এখনো দেখিনি।"

শেষ করব জীবনপথের একটা অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জায়গা ছেড়ে দিয়ে।জীবনানন্দ দাশ‌ বরাবর ছিলেন ধ্বংসবাদে বিশ্বাসী,ঈশ্বরের অস্তিত্বকে তিনি স্বীকার করেননি,আমার আর এক প্রিয় কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত মহাশয়ও হেলায় অবহেলা করেছেন যখনই এরূপ প্রশ্নের সম্মুখীন‌ হয়েছেন,তবে আজ যার কথা আমি বলছি,তিনি কখনই ঈশ্বরের স্বকীয়তা অস্বীকার করেননি,আবার তাঁর কাব্যভাবনায় ঈশ্বরভাবনা যথামথভাবে আসেনি,প্রকৃতিকে তিনি পূজা করতেন,সৃষ্টির আদি হিসাবে আলোচনা করেছেন,তবে তাঁর বহুমাত্রিক কবিতার ভঙ্গিমায় সেই বিশ্বাস কখনও দেখা যায়নি বরং গতিশীলতার যুগে 'ফিরে এসো,চাকা' কি সেই গতিময়তার মুখে একটি একাকীত্ব তুলে ধরে না?সুতীব্র প্রেমের আখ্যান হিসাবে এই গ্রন্থকে তুলে ধরলেও তাঁর জীবনবোধের আংশিক প্রতিফলন কি নয় এটি?

"তবুও কেন যে,হায় হাসি,হায় দেবদারু,
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়।"

প্রশ্ন রেখে গেলাম,কারণ প্রশ্ন‌ করতে শিখিয়েছেন উনি,সদাক্লান্ত এই কবি নব্যভাবনার উদ্রেক ঘটিয়েছেন অত্যন্ত স্বকীয়ভাবে।তাঁর কবিতা স্বপ্নালোকে থেকে যাবে তা কি করে হয়?তিনি যে কালের পথের সন্ধান দিয়েছেন,আজ তা ভীষণভাবেই প্রাসঙ্গিক,সময় হয়েছে তাঁকে এবার বিস্তৃতভাবে জানবার,তাঁর দর্শনের উত্তর খোঁজার—কারণ তিনি 'মানুষের' কথা বলেছেন,বেঁচে থাকার উর্বর এক দিকের হদিশ দিয়েছেন।

আজ এই মহান আত্মার জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে,তাঁর জীবনদর্শন তুলে ধরার অধম এক প্রয়াস করতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত।৮৬ তম জন্মদিনে অধুনা বাংলা সাহিত্যের নিঃস্ব,অদ্বিতীয় এই কবি বিনয় মজুমদারকে আমার বিনম্র ভালোবাসা।।

"দৃশ্যপটের অছিলায় নতুন দৃশ্য
পাশে ঘাঢ় নেড়ে দেখি সদাচারে বিশ্বাসী কুলীনেরা
কি না কি,কবিতা ভেবে হেলা করে,মরেছে তাতে
আর তুমি?
নিঃস্ব পঙ্গুত্বে ফুলের কুঁড়ি নিয়ে খেলা করে,
জীবন-সায়াহ্নে এ কি তোমার নতুন জীবনলাভ
হে,অবিনাশ,হে অনির্বাণ কি ধূসর বৃষ্টি,কি ত্রস্ত বালুচরে
সবিশেষ বর্ণণায় তোমার থাকার কথা,
তবু নেই তুমি,নয়া উদারবাদের এ যে পরিচিত রীতি
মেঘকে কাঁপিয়ে শব্দের নির্ঘোষ পদযাত্রা
বিনা সারথীতে কি রথ বায়?
ফিরে এসো,ফিরে এসো এ ছিন্ন বলয়ে
উর্বর পৃথিবীর নিরাকার ব্রহ্মরুপে।।"
 ©Atanu
_________________________________________________
লেখায়: অতনু প্রামানিক
গ্রন্থঋণ: 'তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়' সম্পাদিত ‌"কাব্যসমগ্র"

Tuesday, July 16, 2019

Call from the soul

Opening my Guisard(a realisation)



I think I never have seen this type of beauty, the whole part is extremely mesmerizing,oh the Holy figure, truly such extreamness is only yours and just in magic it is understandable,though I'm not in my 80's,i think I'm gonna figure out what is life... More than a life, a larger,more and more, never ending lust I'm seeking,the pandemonium is created, but who is capable of doing this, you, no no me,but I'm just a fragment, so how can I get this opportunity to enlarge myself? why this isn't stopping? maybe since the day of my existence a small intention of yours is trying to condemn me, to open the windows, to close the door, to sync myself amidst the flowing river....it doesn't need any push,doesn't need any permission,doesn't need any key... Afterall it's heaven,that always with me,cheering,sobbing,quarelling,roamimg and dreaming.... ALWAYS 

Friday, February 8, 2019

লেখা নাকি ধুঁকছে

লেখা নাকি ধুঁকছে


'লেখা', এ এক বড় বিড়ম্বনার জিনিস। মানুষ শুনতে বা পড়তে যতো না ভালবাসে লিখতে তার চাইতে অনেক কম, হতে পারে হয়তো কেউ লিখতে না চাওয়ার অভিপ্রায়ে অথবা কেউ সঙ্গতভাবেই লিখতে পারে না বলে। জীবনের পরিসর ছোট হোক কি বড়, যে কোনো অবস্থাতেই যা কিছু গল্প সঞ্চয় হয় কিংবা যা কিছু সংগ্রহ করতে পারি আমরা তার সবকিছুই 'লেখা' হতে পারে। 
                বস্তুত,একদিন আমি বাস থেকে নেমে কন্ডাক্টর কে পাঁচ টাকা কম দিলাম,তার মধ্যেকার যে আনন্দ,নিজেকে উপযুক্ত ভাবতে পারার যে বিলাসিতা তা নিয়েও দিব্যি একখানা গায়েগতরে 'লেখা' হতে পারে আবার জেমস জয়েস সাহেব যে 'লেখা' লিখে গেছেন সে 'লেখা'তেও সমৃদ্ধতা থাকে। তফাৎ এখানে দু জায়গায়:প্রথমত,বাসের কন্ডাক্টর টাকা না নেওয়ায় তার কোনো কুণ্ঠা জাগেনি,সে বাস ছেড়ে চলে গেছে, একইভাবে এই গল্প শীতকালের কাথার মত আমাদের আনন্দ দিয়ে হেমন্তের প্রাক্কালে মিঠে রোদের নতুন কোনো বিচিত্র ঝলকের দিশা দেখিয়ে আমাদের মন থেকে বিদায় নেবে। আবার সেইখানেই জয়েস তার সাহসিকতায় ভর করে যে অপূর্ব,চিরন্তন মজার বীজ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন, তার চাওয়া পুরন তো হবে কিন্তু অংশত তা কার্যকর হবে না, পাশ্চাত্যের কঠোর, সাহসী পদক্ষেপে নিদারুন সত্য অনুধাবন করার বিপরীতে আমরা তা আধেক পড়ে আধেক বুঝে তার মজার জায়গা থেকে ভিন্ন হয়ে হোমিওপ্যাথির মোদক খেতে অগ্রসর হব। দ্বিতীয়ত,প্রথম গল্পের গা জোয়ারি চাহিদা এক দশকে বাড়তে বাড়তে এমন হবে যেখানে মড়ার আগে যমদূত এসে মাড়তে চাইলে তাকে এই গল্প শোনাবো, তাতে তিনি আরও রোষে পরে আমাদের মেরে ফেলবেন, অথচ দ্বিতীয় জয়েস সাহেবের যে  গল্পখানি পেড়ে সেই যমদূতের ভাবাবেগের পরিবর্তন ঘটানো যেত,তা ঐকান্তিকভাবেই ভুলে যাব। 
                নীতি-বির্গহিত কাজ করে অনুধাবন করার চেষ্টা না করে আমরা নীতির অনুকূলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আনুকূল্য পেতে চেষ্টা করি, সম্ভবত 'লেখা'র কিছু প্যাঁচ-পয়জার তা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, তথাপি 'লেখা'র মধ্যে কিছু বিরামের প্রয়োজন হয়, তা তো দিইইই না, তার বদলে আমরা বিরামহীনভাবে অযথা ভাবানুরাগ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে থাকি।প্রশ্ন এই যে আমি এই গোটা 'লেখা'তেই এক বৈপ্যরীত্যের ইঙ্গিত টানার চেষ্টা করেছি,অথবা খুঁজেছি; সেটা কি?কি তার প্রয়োজন?সেইটা না  বলে আর একটা অংশ বলি। তা হচ্ছে, 'লেখা'র একটা গুন আছে, তা তোমার স্পর্ধার যথাযথ যোগ অথবা বিয়োগ ঘটায়, শীতহীন গ্রীষ্মে একটা লেখা চারিদিকে ভেঁপু বাজিয়ে দিতেই পারে, তবে শীত যখন আবার আসবে তখন সেই 'লেখা'র প্রাসঙ্গিকতা বহমানথাকার দরকার বৈকি, বিশ্ব-চরাচরে সর্বোচ্চ নিস্পৃহতার জায়গা 'লেখা', আবার সর্বোত্তম সাধনাও সেই 'লেখা'।পালিত হবার আশায়  সমর্পিত হতে চাওয়া, নাকি লালন করবার ভয়ে দূরে থাকা:'লেখা' এবং লিখতে চাওয়ার দীর্ঘ পা‌ঁচহাজার বছরের এই ইতিহাস কোনদিকে যাবে,তা আমাদের প্রধান কর্ত্যব্য হিসাবে বিবেচিত হওয়ার দরকার আছে।